বাংলাদেশে পাসপোর্ট করা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য অপরিহার্য। যদিও পাসপোর্ট ইস্যু করে ডিপার্টমেন্ট অফ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট (DIP), তবে সহায়তার জন্য বাঘা টূরস এন্ড ট্রাভেলসের সেবা নিতে পারেন । এই প্রতিষ্ঠান রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অবস্থিত এবং পাসপোর্ট প্রসেসিং সহ বিভিন্ন ভ্রমণ সেবা প্রদান করে।
ওয়েবসাইটঃ https://baghatours.com
মোবাইলঃ 01723-634806
এই আর্টিকেলে আমরা বাঘা টূরস এন্ড ট্রাভেলস এর মাধ্যমে পাসপোর্ট করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আনুমানিক খরচ এবং প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা করব। দ্রষ্টব্য: সবসময় অফিসিয়াল চ্যানেল যাচাই করুন, কারণ এজেন্সিগুলো শুধুমাত্র সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
#### পাসপোর্ট করার নিয়ম
বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া ই-পাসপোর্ট সিস্টেমের মাধ্যমে চলে, যা অনলাইন-ভিত্তিক। ওয়েব সাইট https://www.epassport.gov.bd/ থেকে করা যায়
বাঘা টূরসের মাধ্যমে এটি করতে চাইলে নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
1. প্রাথমিক যোগাযোগ: প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের ওয়েবসাইট (www.baghatours.com) অনুসারে, হোয়াটসঅ্যাপ (+8801723634806) বা ইমেইল (support@baghatours.com) এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে পাসপোর্ট প্রসেসিং সেবা চান। তারা আপনাকে গাইড করবে এবং প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণে সাহায্য করবে।
2. অনলাইন আবেদন: অফিসিয়াল ওয়েবসাইট epassport.gov.bd-এ গিয়ে আবেদন ফর্ম পূরণ করুন। এখানে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে রেজিস্টার করতে হবে। বাঘা টূরস এই ধাপে সাহায্য করতে পারে, যেমন ফর্ম চেকিং বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং।
3. অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং এনরোলমেন্ট: আবেদন জমা দেওয়ার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। পাসপোর্ট অফিসে (যেমন রাজশাহী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস) গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ছবি এবং স্বাক্ষর দিন। বাঘা টূরসের মতো এজেন্সি এখানে ডকুমেন্ট প্রস্তুতি এবং ফলোআপে সাহায্য করে।
4. পাসপোর্ট সংগ্রহ: প্রসেসিং শেষ হলে (সাধারণত ১৫-২১ দিন রেগুলার, ৭-১০ দিন এক্সপ্রেস) পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন। এজেন্সি এটি ট্র্যাক করতে সাহায্য করতে পারে।যদি এটি রিনিউয়াল হয়, তাহলে পুরনো পাসপোর্ট জমা দিন এবং পরিবর্তনের বিবরণ উল্লেখ করুন।
####অনলাইনে(epassport.gov.bd) পাসপোর্ট করতে যা লাগবেঃ
১। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইনে পূরণ করা যাবে।
২। ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে কোন কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন হবে না।
৩। ই-পাসপোর্ট ফরমে কোন ছবি সংযোজন এবং তা সত্যায়নের প্রয়োজন হবে না।
৪। জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version) অনুযায়ী আবেদন পত্র পূরণ করতে হবে।
৫। অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী যার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নাই, তার পিতা অথবা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
৬। জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version) নিম্নোক্ত বয়স অনুসারে দাখিল করতে হবে-
(ক) ১৮ বছরের নিম্নে হলে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version).
(খ) ১৮-২০ বছর হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version)
(গ) ২০ বছরের উর্ধে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) আবশ্যক । তবে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন হতে আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version) গ্রহণযোগ্য হবে।
৭। তারকা চিহ্নিত ক্রমিক নম্বরগুলো অবশ্যই পূরণীয়।
৮। দত্তক/অভিভাবকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদনের সাথে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত আদেশ দাখিল করতে হবে।
৯। আবেদন বর্তমান ঠিকানা সংশ্লিষ্ঠ বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস/আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস/বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনে দাখিল করতে হবে।
১০। ১৮ বছরের নিম্নের সকল আবেদনে ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ০৫ বছর এবং ৪৮ পৃষ্ঠার।
১১। প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদসমূহ (যেমন: ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি) আপলোড/সংযোজন করতে হবে।
১২। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক জিও (GO)/এনওসি (NOC)/ প্রত্যয়নপত্র/ অবসরোত্তর ছুটির আদেশ (PRL Order)/ পেনশন বই আপলোড/সংযোজন করতে হবে যা ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নিজ নিজ Website এ আপলোড থাকতে হবে।
১৩। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ/নিকাহনামা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা দাখিল করতে হবে।
১৪। দেশের অভ্যন্তরে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফি এর উপর নির্ধারিত হারে ভ্যাট (VAT) সহ অন্যান্য চার্জ (যদি থাকে) অতিরিক্ত হিসাবে প্রদেয় হবে। বিদেশে আবেদনের ক্ষেত্রেও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি প্রদেয় হবে।
১৫। কূটনৈতিক পাসপোর্টের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার উইং (Consular and Welfare Wing) অথবা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় বরাবর আবেদনপত্র দাখিল করতে হবে।
১৬। বৈদেশিক মিশন হতে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হলে স্থায়ী ঠিকানার কলামে বাংলাদেশের যোগাযোগের ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।
১৭। অতি জরুরী পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে (নতুন ইস্যু) নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ পূর্বক আবশ্যিকভাবে আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
১৮। (ক) দেশের অভ্যন্তরে অতি জরুরী পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে ২ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।
(খ) দেশের অভ্যন্তরে জরুরী পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।
(গ) দেশের অভ্যন্তরে রেগুলার পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।
১৯। আবেদনের সময় মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC English Version) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সনদ, সরকারি আদেশ (GO)/অনাপত্তি (NOC) প্রদর্শন/দাখিল করতে হবে।
২০। পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে হবে।
২১। হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল জিডির কপি প্রদর্শন/দাখিল করতে হবে। পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অথবা চুরি হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে। পুনরায় পাসপোর্টের জন্য আবেদনের সময় পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি এবং জিডি কপিসহ আবেদনপত্র দাখিল করতে হবে ।
২২। ০৬ বছর বয়সের নিম্নের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩ আর (3R Size) সাইজের ( ল্যাব প্রিন্ট গ্রে ব্যাকগ্রউন্ড ) ছবি দাখিল করতে হবে।
তথ্য সূত্রঃ
বহিরাগমন শাখা ১ , সুরক্ষা সেবা বিভাগ , স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়স্মারক নং ৫৮.০০.০০০০.০৪০.০১.০০৩.১৬-১২৩৪
নিরাপত্তা ও বহিরাগমন অনুবিভাগ,
৫৮.০০.০০০.০৪৩.৯৯.০২২.২২.২২ (৬৫ বছর উর্ধ বয়সী নাগরিকের ০৫ বছরের পাসপোর্ট হবার শর্তটি বাতিল) -ক্রমিক নং ১০।
About usFeedback
#### পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে
পাসপোর্ট আবেদনের জন্য নিম্নলিখিত ডকুমেন্টস প্রয়োজন:
- প্রিন্টেড অ্যাপ্লিকেশন সামারি: অনলাইন ফর্ম পূরণ করে প্রিন্ট করুন (বারকোড সহ)।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): অথবা জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট (যদি NID না থাকে)।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি: নির্দিষ্ট মাপের (যদি অফিসে না তোলা হয়)।
- প্রুফ অফ অ্যাড্রেস: ইউটিলিটি বিল বা অন্যান্য (যদি প্রয়োজন হয়)।
- পুরনো পাসপোর্ট: রিনিউয়ালের ক্ষেত্রে।
- অন্যান্য: শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা বিশেষ ক্যাটাগরির জন্য অতিরিক্ত ডকুমেন্টস (যেমন শিশুদের জন্য অভিভাবকের NID)।
বাঘা টূরসের মাধ্যমে আবেদন করলে তারা এই ডকুমেন্টস চেক করে সাহায্য করবে, কিন্তু অফিসিয়ালভাবে সবকিছু পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে।<
#### আনুমানিক খরচ
পাসপোর্টের খরচ DIP-এর নির্ধারিত ফি-এর উপর নির্ভর করে (২০২৫ সালের হিসাবে
- ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছরের মেয়াদ (রেগুলার): BDT ৪,০২৫ (প্রায়)।
- এক্সপ্রেস: BDT ৬,৩২৫।
- আর্জেন্ট: BDT ৮,৬২৫।
- ৬৪ পৃষ্ঠা বা ১০ বছরের মেয়াদ: উচ্চতর ফি (BDT ৫,৭৫০ থেকে শুরু)।
বাঘা টূরসের সার্ভিস ফি অতিরিক্ত হতে পারে, যা সাধারণত BDT ১,০০০-৩,০০০ হয় (এজেন্সি-ভিত্তিক, নির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় আনুমানিক)। তারা ফর্ম পূরণ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং ফলোআপের জন্য চার্জ…